স্পেশাল এয়ার সার্ভিস

স্পেশাল এয়ার সার্ভিস
180px
স্পেশাল এয়ার সার্ভিস ইনসিগনিয়া
সক্রিয়১৯৪১–১৯৪৫; ১৯৪৭–বর্তমান[১][২][৩]
দেশ United Kingdom
শাখা ব্রিটিশ সেনাবাহিনী
ধরনবিশেষ বাহিনী
ভূমিকাবিশেষ অভিযান
কাউন্টার টেরোরিজম
Reconnaissance
আকারThree regiments[nb ১]
অংশীদার22 SAS: United Kingdom Special Forces (UKSF)
21 & 23 SAS: 1st ISR Brigade
গ্যারিসন/সদরদপ্তরRHQ: Stirling Lines, Hereford, United Kingdom
21 SAS: Regent's Park Barracks, London, United Kingdom[৪]
22 SAS: Stirling Lines, Hereford, United Kingdom[৪]
23 SAS: Birmingham, West Midlands, United Kingdom[৪]
ডাকনাম"The Regiment"[৭]
নীতিবাক্যWho Dares Wins[৮]
ColoursPompadour blue[৮]     
মার্চQuick: Marche des Parachutistes Belges[৮]
Slow: Lili Marlene[৮]
যুদ্ধসমূহSAS operations
কমান্ডার
Colonel-CommandantField Marshal The Lord Guthrie[৯]

স্পেশাল এয়ার সর্ভিস (এসএএস) হচ্ছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ বাহিনী ইউনিট। এসএএস ১৯৪১ সালে একটি রেজিমেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে এটিকে একটি সৈন্যদল হিসাবে পুনর্গঠন করা হয়।[৫] এই ইউনিট গোপন নজরদারী, সন্ত্রাসবিরোধী, সরাসরি আক্রমণ এবং জিম্মি উদ্ধার সহ অনেকগুলো দায়িত্ব পালন করে। এসএএস এর বেশির ভাগ তথ্য ও কর্মপদ্ধতি অত্যন্ত গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর বিধায় ব্রিটিশ সরকার বা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বারা মন্তব্য করা হয় না।[১০][১১][১২]

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্পেশাল ফোর্সের কার্যনির্বাহী কমান্ডের অধীনে ২২নম্বর স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট এর সাথে ২১নম্বর (আর্টিস্ট) স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট (রিজার্ভ) এবং ২৩ তম এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট (রিজার্ভ) গঠিত যা ১ম ইন্টেলিজেন্স, গোয়েন্দা নজরদারি ও রক্ষণ ব্রিগেড দ্বারা সংরক্ষিত।

২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪১ এ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে টেরিটোরিয়াল আর্মির অংশ হিসাবে এটি সংস্কার করা হয় ২১ তম স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট (আর্টিস্টস রাইফেলস) নামে। নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসাবে ১৯৮০ সালের ইরানি দূতাবাসের অবরোধের সকল বন্দীদের উদ্ধারের টেলিভিশন সম্প্রচরের পর ২২তম স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এবং স্বীকৃতি লাভ করে।

ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

স্পেশাল এয়ার সার্ভিস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট ছিল যা ১৯৪১ সালে ডেভিড স্টার্লিং দ্বারা গঠিত হয় এবং “এল” ডিটাচমেন্ট নামে ডাকা হত। স্পেশাল এয়ার সার্ভিস ব্রিগেড- "এল" পদবী এবং এয়ার সার্ভিস নামটি ব্রিটিশ ভ্রান্ত প্রচারাভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এটা আ্যাক্সিসকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করে যে উক্ত এলাকায় একাধিক ইউনিট যুক্ত একটি প্যারাট্রুপার রেজিমেন্ট ছিল (প্রকৃত এসএএস অ্যাক্সিসকে "প্রমাণ" করে যে নকলটারও অস্তিত্ব ছিল)।[১][১৩] It was conceived as a commando force to operate behind enemy lines in the North African Campaign[১৪] এটি উত্তর আফ্রিকান ক্যাম্পেইনে শত্রু সিমার পিছনে পরিচালিত একটি কমান্ডো বাহিনী হিসেবে ধারণা করা হয়েছিল এবং প্রাথমিকভাবে ৬০জন অন্যান্য র‌্যাঙ্কধারীদের সাথে পাঁচ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪১ সালের ১লা নভেম্বর, অপারেশন ক্রুসেডার আক্রমণের সমর্থনে একটি প্যারাশুট ড্রপ ছিল এসএএস এর প্রথম মিশন। জার্মান প্রতিরোধ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে, মিশনটি ব্যর্থ হয়েছিল; ২২ জন পুরুষ, ইউনিটের এক তৃতীয়াংশ খুন অথবা বন্দী হয়। এটার দ্বিতীয় মিশনটি অবশ্য খুব বড় একটা সাফল্য ছিল। দূরপাল্লা মরুভূমির একটি দলের সাহায্যে এটি লিবিয়ার তিনটি বিমানঘাঁটি আক্রমণ করে, মাত্র ২জন সৈন্যের মৃত্যু এবং ৩টি জিপ ধ্বংসের বিনিময়ে ৬০টি বিমান ধ্বংস করে। ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরে এটি চারটি ব্রিটিশ স্কোয়াড্রন, একটি ফ্রি ফ্রেঞ্চ, একটি গ্রীক এবং ফোলবোট সেকশনের সমন্বয়ে ১ম এসএএস নামে পুনঃনামকরণ করা হয়।[১৫]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন উত্তর আফ্রিকায় এসএএস টহল

১৯৪৩ সালের জানুয়ারীতে, কর্নেল স্টার্লিংকে তিউনিসিয়াতে বন্দী করা হলে প্যাডি মেইনকে তার বদলে কমান্ডার করা হয়। ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে, মেইন সাহেবের কমান্ডে স্পেশাল রেইডিং স্ক্রোয়াড্রন এবং জর্জ জেলিকোর অধীনে স্পেশাল নৌ স্ক্রোয়াড্রন কে ১ম এসএএস তে পুনঃমোতায়ন করা হয়।[১৬] স্পেশাল রেইডিং স্কোয়াড্রন সিসিলি ও ইতালিতে ২য় এসএএস এর সাথে যুদ্ধ করে। ২য় এসএএস উত্তর আফ্রিকায় ১৯৪৩ সালে ছোট ছোট রেইডিং ফোর্সে বিভক্ত হয়ে গঠিত হয়েছিল।[১৭][১৮] যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পেশাল বোট স্কোয়াড্রন এইগেয়ান দ্বীপ ও ডোডেক্যানিজে যুদ্ধ করে। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ১ম ও ২য় এসএএস, ফ্রেঞ্চ ৩য় ও ৪র্থ এসএএস এবং বেলজিয়ান ৫ম এসএএস মিলে এসএএস ব্রিগেড গঠিত হয়।[১৯] এই ব্রিগেড মিত্র শক্তিকে এগিয়ে নিতে ফ্রান্স (অপারেশন হাউন্ডসওর্থ, বুলবাস্কেট, লয়টন এবং ওয়ালাস-হার্ডলি) সহ বিভিন্ন দেশে জার্মান লাইনের পেছনে[২] মিত্র শক্তির প্যারাশুট অপারেশনগুলি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে। বেলজিয়ামে দ্য নেদারল্যান্ডস (অপারেশন পেগাস্যাস) এবং সবশেষে জার্মানিতে (অপারেশন আর্কওয়ে)।[১৯][২০] ১৯৪২ সালের ১৮ই অক্টোবর হিটলার কর্তৃক জারীকৃত কমান্ডো অর্ডারের ফলে ইউনিটের সদস্যরা এমন মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েন যে, যদি তারা জার্মানদের হাতে ধরা পড়ে তাহলে সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবেন। ১৯৪৪ সালের জুলাইয়ে, অপারেশন বুলবাস্কেট চলাকালীন ৩৪ জন এসএএস সদস্য ধরা পড়েন এবং সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন; জার্মানরা তা কার্যকর করে। একই বছরের অক্টোবরে অপারেশন লয়টন পরবর্তী সময়ে ৩১ জন এসএএস কমান্ডোকে ধরে জার্মানরা কমান্ডো অর্ডার বলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।[২১]

যুদ্ধোত্তর

যুদ্ধের শেষের দিকে ব্রিটিশ সরকার আর প্রয়োজন মনে না করায় ১৯৪৫ সালের ৮ অক্টোবর তারিখে এটিকে ভেঙ্গে দেয়।[২]

পরের বছর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে দীর্ঘমেয়াদী গভীর অনুপ্রবেশ সক্ষম কমান্ডো ইউনিটের প্রয়োজন এবং একটি নতুন এসএএস রেজিমেন্ট টেরিটরিয়াল আর্মির অংশ হিসাবে পুনরুত্থান করা হয়।[২২] পরিশেষে, ১৮৬০ সালে উত্থাপিত শিল্পী রাইফেলসের সদর দফতর ইউস্টনস্থ ডিউকস রোডে স্থাপন করে ১৯৪৭ সালের ১লা জানুয়ারি তারিখ অনুসারে ২১ তম এসএএস রেজিমেন্ট (ভি) কে এসএএস ম্যান্টেল হিসাবে গ্রহণ করেন।[৩][২২]

মালায়ান স্কাউট

man in British Army uniform, carrying a parachute helmet and wearing a beret, other men can just be seen in the dark background
১৯৫৫ সালে ডেনমার্কে রাত্রীকালীন প্যারাশুট ড্রপ অনুশীলনের পরে ২১ এসএসএ-এর এক সৈনিক

১৯৫০ সালে, কোরিয়ার যুদ্ধে ২১ এসএএস এর একটি স্কোয়াড্রনকে ব্যবহার করা হয়েছিল। ব্রিটেনে তিন মাসের প্রশিক্ষণের পর, জানানো হয়েছিল যে স্কোয়াড্রনটি আর কোরিয়ার যুদ্ধে প্রয়োজন হবে না এবং এর পরিবর্তে মালায়ান জরুরী অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক দল হিসাবে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়।[২৩] মালায়ায় পৌছানো পর স্কোয়া্ড্রনটি মাইকেল ক্যালভার্টের অধীনে আসে যিনি মালয়ী স্কাউটস (এসএএস) নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করেন।[২৩] ক্যালভার্ট ইতোমধ্যে দূর প্রাচ্যে ১০০ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে থেকে একটি স্কোয়াড্রন গঠন করেন, যেটাকে বলা হত এ স্কোয়াড্রন- ২১ এসএএস হয়ে ওঠে তখন বি স্কোয়াড্রন এবং রোডেশিয়া পরিদর্শন শেষে ক্যালভার্ট ১০০০ রোডেশিয়ান স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সি স্কোয়া্ড্রন তৈরি করেন।[২৪] রোডেশিয়ানরা তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর বাড়িতে ফিরে যায় এবং নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড্রন তাদের জায়গায় দায়িত্ব নেয়।[২৫] এই সময় একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী হিসাবে এসএএস রেজিমেন্ট স্বীকৃতি পায়; ২২তমএসএএস রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫২ সালে সেনাবাহিনীর তালিকাতে যুক্ত করা হয় এবং ১৯৬০ সাল হতে হেরফোর্ডে এটি গঠিত হয়।[৮] ১৯৫৯ সালে তৃতীয় রেজিমেন্ট, ২৩তম এসএএস রেজিমেন্ট, রিজার্ভ রিকনাইসেন্স ইউনিট হিসাবে নামকরণ করে গঠিত হয়, যা এমএ৯-র সফলতা লাভ করে এবং যার সদস্যরা পলায়ন এবং চুরি-তে (এস্কেপ অ্যান্ড ইভেশন) দক্ষ ছিলেন।[২৬]

২২ এসএএস রেজিমেন্ট

মালায়াতে দায়িত্ব পালনের সময়ে নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসাবে ২২ এসএএস রেজিমেন্টের সৈন্যদের বোর্নেওতে কিছু গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে গোপন নজরদারি এবং সার্ভেইল্যান্স টহলে অংশগ্রহণ করে।[২৭] কমিউনিস্ট গেরিলাদের বিরুদ্ধে একটি অপারেশন ছিল ওমানের মিরবত যুদ্ধ।[২৮] তারা অ্যাডেনের জরুরীবস্থায়,[২৯] উত্তর আয়ারল্যান্ড[৩০] এবং গাম্বিয়াতে[২৭] অপারেশনগুলিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের বিশেষ প্রকল্প দল মোগাদিশুতে ওয়েস্ট জার্মান সন্ত্রাসবিরোধী গোষ্ঠী জিএসজি ৯-কে সহায়তা করেছিল।[২৭] লন্ডনের ইরান দূতাবাস অবরোধে জিম্মি উদ্ধার অভিযানে চমৎকারভাবে অংশ নেয় এসএএস-র সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগ।[৩১] ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় বি স্কোয়াড্রনকে অপারেশন মিকোডোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে যদিও এটি বাতিল করে ডি এবং জি স্কোয়াড্রনকে মোতায়েন করা হয়েছিল পেবেল দ্বীপ আক্রমণে অংশগ্রহণের জন্য।[৩২] জিব্রাল্টারে আঞ্চলিক আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (পিআইআরএ)-এর বিরুদ্ধে অপারেশন ফ্লাভিয়াস প্রিজিভাল ছিল একটি বিতর্কিত অপারেশন।[২৭] এছাড়াও ২২তম এসএএস সার্ব অবস্থানের উপর ন্যাটোর বিমান হামলা পরিচালনা করে এবং বসনিয়াতে যুদ্ধাপরাধীদের ধরে।[৩৩][৩৪] তারা কসোভো যুদ্ধে সার্বিয়ান লাইনের পেছনে কেএলএ গেরিলাদেরকে সহায়তাদানে জড়িত ছিলেন। আলবানিয়ান সূত্রমতে একজন এসএএস সার্জেন্ট সার্বিয়ার বিশেষ বাহিনী কর্তৃক নিহত হয়।[৩৫]

উপসাগরীয় যুদ্ধ, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রাভো টু জিরো মিশনের ব্যর্থতার পরও ছিল এ, বি এবং ডি স্কোয়াড্রনের উল্লেখযোগ্য বৃহত্তম সৈন্য সমাবেশ।[৩৬] সিয়েরা লিওনে রয়্যাল আইরিশ রেজিমেন্টের জিম্মি সদস্যদের বের করার জন্য অপারেশন ব্যারাসে নামক অভিযান পরিচালনা করে।[২৭] ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে আল কায়েদা দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলার পর, ২২ এসএএস-এর ২ টি স্কোয়াড্রন জোটবদ্ধ আক্রমণের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানে ন্যস্ত দুটি আঞ্চলিক এসএএস ইউনিটের সাথে সংযুক্ত হয়ে (২০০১-চলমান) আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা থেকে হটিয়ে সেখানকার আল-কায়েদার নিরাপদ বেস ধ্বংস করার যুদ্ধে লিপ্ত। এই রেজিমেন্ট এর ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অপারেশন সম্পন্ন করে যার নাম অপারেশন ট্রেন্ট, যে অপারেশনে যুদ্ধকালীন হ্যলো প্যারাসুট লাফ অন্তর্ভূক্ত। এই আক্রমণের পর, রেজিমেন্ট আফগানিস্তানে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তালিবান ও অন্যান্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, এসএএস আফগানিস্তানে পুনঃমোতায়েন হওয়ার পর ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত ইরাকে অপারেশন পরিচালনা এর লক্ষ্য হয়ে ওঠে।[৩৭][৩৮]

ইরাক যুদ্ধে রেজিমেন্ট অংশ নেয়ার পর, ২০০৩ সালের আগ্রাসনের পূর্বে ইরাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিযান চালায়। এই আক্রমণের পর, এটি টাস্ক ফোর্স ব্ল্যাক/নাইট টাস্ক ফোর্সের অংশ হিসাবে পশ্চাদপসরণকারী বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই করে; ২০০৫ সালের শেষের দিকে/২০০৬ এর শুরুতে, এসএএস জেএসওসি-র সাথে একত্রিত হয়ে ইরাকের আল-কায়েদা এবং সুন্নি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ডেল্টা ফোর্সের পাশাপাশি যুদ্ধ করে। জঙ্গি-বিদ্রোহ দমন সফল হয় এবং ইরাকে ইউকেএসএফ মিশন ২০০৯ সালের মে মাসে শেষ হয়।[৩৭][৩৮][৩৯]

বিভিন্ন ব্রিটিশ পত্রিকায় অপারেশন এলামি এবং ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে এসএএস-র সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডেইলি টেলিগ্রাফ রিপোর্ট করে যে, “প্রতিরক্ষা সূত্রগুলি নিশ্চিত করেছে যে লিবিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে এসএএস রয়েছে এবং ত্রিপোলির পতনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”[৪০] দ্য গার্ডিয়ান জানায়, "তারা ফরেন এয়ার কন্ট্রোলার-পাইলট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে ন্যাটো কর্মসংস্থান কমান্ডারদের সাথে যোগাযোগ ও যোগাযোগের জন্য। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, “এসএএস অগ্রগামি এয়ার কন্ট্রোলার পদে বহাল হয়ে পাইলটদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার দায়িত্ব পরিচালনা করছে এবং ন্যাটোর অপারেশনাল কমান্ডারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তারা বিদ্রোহীদেরও যুদ্ধকৌশল নির্ণয়ে পরামর্শ দিচ্ছে।”[৪১]

২০১৪ সালের আগস্ট মাসের শেষদিকে সিরিয়া ফেরত এমআই৬ এর প্রধান রিচার্ড ব্যারেটের অধীনে স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের সদস্যদের উত্তর ইরাকে মোতায়েন করা হয়। তাদের দায়িত্ব ছিল মিডিয়ায় দ্য বিটলস হিসেবে আখ্যায়িত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এবং লেভান্ট (আইএসআইএল) কে খুঁজে বের করা।[৪২][৪৩][৪৪][৪৫] গণমাধ্যমে এদেরকে দ্য বিটলস নামে আখ্যায়িত করেছিল। ২০১৪ সালের অক্টোবরে, এসএএস পশ্চিম ইরাকে আইএসআইএল এর সাপ্লাই লাইনে আক্রমণ করে হেলিকপ্টার থেকে হালকা যানে স্নাইপার স্কোয়াড ড্রপ করার মাধ্যমে। এই হামলায় প্রতিদিন গড়ে ৮জন আইএসআইএল যোদ্ধা এসএএস-দ্বারা নিহতের দাবী করা হয়।[৪৬]

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এসএএস কর্মকর্তারা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে উন্নীত হন। জেনারেল পিটার দে লা বিলিয়ের ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন।[৪৭] জেনারেল মাইকেল রোজ ১৯৯৪ সালে বসনিয়াতে ইউনাইটেড নেশনস প্রোটেকশন ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন।[৪৮] ১৯৯৭ সালে জেনারেল চার্লস গুথ্রি ব্রিটিশ চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ নির্বাচিত হন অর্থাৎ ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান।[৪৯] লেফটেন্যান্ট-জেনারেল ক্যাডরিক ডেলভেস-কে ২০০২-২০০৩ সালে ন্যাটোর আঞ্চলিক সদর দপ্তরে যৌথ বাহিনী উত্তর-এর স্থল বাহিনীর কমান্ডার এবং ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ পদে নিযুক্ত করা হয়।[৫০]

অন্যান্য বিশেষ বাহিনীর উপর প্রভাব

স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের পর কমনওয়েলথের অন্যান্য দেশ তাদের অনুরূপ ইউনিটের প্রয়োজন অনুভব করে। কানাডিয়ান স্পেশাল এয়ার সার্ভিস কোম্পানি গঠিত হয় ১৯৪৭ সালে, ১৯৪৯ সালে তা আবার ভেঙ্গেও দেয়া হয়।[৫১][৫২] নিউজিল্যান্ডের স্পেশাল এয়ার সার্ভিস স্কোয়াড্রনটি বৃটিশ এসএএস এর সাথে মালয়ে কাজ করার জন্য ১৯৫৫ সালের জুনে গঠিত হয় যা ২০১১-তে এসে পূর্ণ রেজিমেন্টে রূপান্তরিত হয়ে ওঠে।[৫৩] অস্ট্রেলিয়া প্রথম এসএএস কোম্পানী গঠন করে ১৯৫৭ সালের জুলাইতে। যা ১৯৬৪-তে এসে স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট (এসএএসআর)-রূপে পূর্ণ রেজিমেন্টে পরিণত হয়।[৫৪] ১৯৬১ সালে মালয় ফেরত সি (রোডেশিয়ান) স্কোয়াড্রন রোডেশিয়ান স্পেশাল এয়ার সার্ভিস এর নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করে।[২৬] ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এই বাহিনী “সি স্কোয়াড্রন (রোডেশিয়ান) স্পেশাল এয়ার সার্ভিস” নামটি রয়ে যায়। পরে এটা ১ (রোডেশিয়ান) স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট হয়।

কমনওয়েলথ এর বাইরের দেশগুলোও এসএএস-র মত ইউনিট গঠন করেছে। বেলজিয়ান সেনবাহিনী-র স্পেশাল ফোর্স গ্রুপ, যারা আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫ম স্পেশাল এয়ার সার্ভিস এর উত্তরসূরী ঠিক এসএএস এর মত একই ধরণের ক্যাপ ব্যাজ ব্যবহার করে।[৫৫][৫৬][৫৭][৫৮][৫৯][৬০][৬১] ফ্রেঞ্চ ১ম মেরিন ইনফ্যান্ট্রি প্যারাস্যুট রেজিমেন্ট (১ম আরপিএমএ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৩য় ও ৪র্থ এসএসএস-র সাথে মিল পাওয়া যায়, এমনকি এসএএসের মূলমন্ত্র “হু ডেয়ারস উইনস” অনুকরণ করে।[৬২] ১ম স্পেশাল ফোর্স অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট ডেল্টা- নামের আমেরিকান ইউনিটটি চার্লস এলভিন ব্যাকউইথের অধীনে গড়ে ওঠে, যিনি নিজে ২২ এসএএস-তে বদলী কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেন এবং অনুরুপ একটি মার্কিনী রেজিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।[৬৩] ইজরাইলী সায়রেত মাতকাল রেজিমেন্টও এসএএস-এর মূলমন্ত্র অনুকরণে গঠিত হয়। আয়ারল্যান্ডের সৈন্যদল রেঞ্জার উইং (এআরডব্লিউ)-ও এসএএসের অনুকরণে প্রশিক্ষিত হয়।[৬৪] ফিলিপাইনের ন্যাশনাল পুলিশের স্পেশাল ফোর্সও এসএএস এর অনুকরণে গঠিত হয়।[৬৫]

Other Languages